বিবিসি অবলম্বনে মাহবুব আল মেহেদী জিসান
চীনে অনলাইন জায়ান্ট গুগলের ওপর সাইবার আক্রমণ যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি চীনে গুগলের ওপর বহুল আলোচিত সাইবার আক্রমণ নিয়ে এখনো দুশ্চিন্তা কথা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। অপরদিকে চীনে ইন্টারনেটে বিধিনিষেধ আরোপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সমালোচনায় চীনের নিন্দা প্রস্তাব করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সমালোচনায় চীনের নিন্দা প্রস্তাবে পর ওবামা তাঁর এই দুশ্চিন্তার কথা জানান। হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র ওবামার উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, তিনি এর একটা সদুত্তর এবং এর জন্য দায়ীদের উপযুক্ত শাস্তি চাচ্ছেন।
সম্প্রতি হিলারি এক বিবৃতিতে জানান, চীনের অভাবনীয় অগ্রগতিতে ইন্টারনেটের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। কোনো দেশ ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর বাধানিষেধ আরোপ করার মানে হচ্ছে, আগামী শতকের অগ্রগতির ধারা থেকে নিজেদের বিচ্যুত রাখা। বেসরকারি খাতেরও মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় সমান দায়িত্ব রয়েছে এবং তাদের উচিত, এই সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়া। হিলারি গুগুলের ওপর সাইবার আক্রমণের দ্রুত তদন্তও দাবি করেন। হোয়াইট হাউস মুখপাত্র জানান, হিলারির এই কথায় সম্পূর্ণ একমত ওবামাও।
গুগল জানায়, চীনে নিজেদের কার্যক্রম বন্ধের ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে তারা। এর জাবাবে চীন জানায়, দেশের প্রচলিত আইন ও সংস্কার মেনে চললে গুগলসহ অন্যান্য বিদেশি ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানকে চীন সবসময়ই স্বাগত জানাবে। ২০০৬ সালে চীনে ব্যবসা শুরুর সময় সে দেশের রাষ্ট্রীয় কিছু গোপনীয় বিষয় প্রচারে নিয়ন্ত্রণের ব্যপারে রাজি হয়েছিল গুগল। কিন্তু গুগল এখন এই বিধিনিষেধ মানছে না। গত বছর দেশটিতে সার্চ ইঞ্জিনের বাজার ছিল ১০০ কোটি ডলারের। এই বাজারের ৬০ শতাংশ দখল নিয়ে শীর্ষে আছে স্থানীয় সার্চ ইঞ্জিন বাইডু। গুগলের বাজার সেখানে ৩০ শতাংশ।
ঘটনাপঞ্জি: গুগলে সাইবার আক্রমণ
১২ জানুয়ারি ২০১০: গুগল জানায়, সার্চ ইঞ্জিন নিয়ন্ত্রণের কারণে চীন থেকে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নেবে।
১৩ জানুয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র জানায়, গুগলে সাইবার আক্রমণ নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় আছে।
১৪ জানুয়ারি: যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনায় চীন তাদের প্রথম প্রতিক্রিয়া জানায়। সে দেশের আইন মেনে চললে যেকোনো ইন্টারনেটভিত্তিক বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে তারা স্বাগত জানাবে।
১৬ জানুয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা এর আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাবে।
২১ জানুয়ারি: চীন জানায় গুগলের ঘটনাটিকে চীন-মার্কিন সম্পর্কের সঙ্গে যোগসূত্র করা ঠিক হবে না
২১ জানুয়ারি: হিলারি ক্লিনটন চীনের ইন্টারনেট নীতির সমালোচনা করে ও বেইজিংয়ের কাছে গুগলের ঘটনার তদন্ত দাবি করে।
২২ জানুয়ারি: চীন হিলারির সমালোচনাকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দেয়।
Wednesday, January 27, 2010
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment